প্যারামেডিকেল কোর্সের জন্য কলকাতার একমাত্র বিশ্বস্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হচ্ছে জর্জ টেলিগ্রাফ

বর্তমান ভারতে চিকিৎসা প্রযুক্তির বিবর্তনের ফলে প্যারামেডিক্সের চাহিদা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই চিকিৎসক এবং নার্স ব্যতীত প্যারামেডিক্স হল ভারতীয় মেডিক্যাল সার্ভিসে যোগদানের এক অন্যতম উপায়। এইজন্য বর্তমানে প্যারামেডিকেল কোর্সের চাহিদাও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে।

একজন ভালো প্যারামেডিক্স হতে গেলে শিক্ষার্থীকে সঠিক শিক্ষা কেন্দ্র নির্বাচন করতে হবে। একটি ভালো প্যারামেডিকেল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভালো প্রশিক্ষকদের সাথে বর্তমানে মেডিকেল সার্ভিসে ব্যবহৃত সমস্ত ধরনের যন্ত্রাংশের উপস্থিতি প্রয়োজন। প্যারামেডিকেল কোর্স যেহেতু একটি কর্ম-নির্ভর শিক্ষা, তাই শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শিক্ষা প্রদান একান্তই প্রয়োজন। আমাদের মনে রাখতে হবে একজন রোগীর জীবন ডাক্তার ও নার্সদের সাথে একজন প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক্সের উপর নির্ভর করে।

বর্তমান কলকাতায় বহু নামিদামি সংস্থা শিক্ষার্থীদের প্যারামেডিকেল কোর্স অফার করছে তাই শিক্ষার্থীদের পক্ষে সঠিক শিক্ষা কেন্দ্র নির্বাচন করা কঠিন হয়ে উঠেছে জর্জ টেলিগ্রাফ হচ্ছে কলকাতা সহ সমগ্র পূর্ব ভারতের একটি বিশ্বস্ত ইনস্টিটিউট অফ প্যারামেডিকেল সাইন্স এন্ড ম্যানেজমেন্ট বহু শিক্ষার্থী এই শিক্ষা কেন্দ্র থেকে প্যারামেডিকেল কোর্স করে আজ নামিদামি হাসপাতালে কর্মরত তাই একজন সফল প্যারামেডিক্স হবার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ জর্জ টেলিগ্রাফ।

প্যারামেডিকেল কোর্স কি?

প্যারামেডিকেল কোর্স হচ্ছে একটি কর্ম নির্দিষ্ট শিক্ষা যেখানে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা কর্মীতে রূপান্তরিত করা হয়। বর্তমানে বর্ধিত জনসংখ্যার সাথে সাথে সমাজে প্যারামেডিক্স এর প্রয়োজনও আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতে আজ চিকিৎসা পরিষেবার উন্নতির সাথে সাথে একজন বিশেষজ্ঞ প্যারামেডিকেল কর্মীর চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে ।

প্যারামেডিক্স হল ইমারজেন্সি মেডিকেল সার্ভিসের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। একজন প্যারামেডিক্স আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে রোগীকে মেডিকেল সাপোর্ট প্রদান করে। প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে একজন প্যারামেডিক্স থাকে যারা মরণাপন্ন রোগীদের তাৎক্ষণিক সেবার মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখে।

এই প্যারামেডিক্সরা চিকিৎসারত রোগীদের ডাক্তারি নির্দেশ মত সেবা দিয়ে থাকেন। ডায়েটিশিয়ান, ল্যাব টেকনোলজিস্ট, টেকনিশিয়ানস এন্ড ট্রান্সক্রিপসনিস্ট, মেডিকেল রেকর্ড টেকনিশিয়ানস প্রাকটিক্যাল নার্সেস হল এই প্যারামেডিক্সদের মধ্যে অন্যতম।

জর্জ টেলিগ্রাফে প্রদানকারী কোর্সসমূহ

জর্জ টেলিগ্রাফি বিভিন্ন ধরনের ডিগ্রী প্যারামেডিকেল কোর্সেস প্রদান করা হয়ে থাকে। এখানে প্যারামেডিক্স এর উপর একাধিক ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্স করানো হয়ে থাকে। এগুলি হল,

ডিপ্লোমা ইন ডায়ালিসিস টেকনিশিয়ান

যোগ্যতা- মাধ্যমিক পাস হতে হবে।

এটি একটি ২৪ মাসের কোর্স।

ডায়ালিসিস টেকনিশিয়ানদের রেনাল ডায়ালিসিস টেকনিশিয়ান বা নেফ্রলজি টেকনিশিয়ান হিসেবেও ডাকা হয়ে থাকে। ডায়ালিসিস টেকনিশিয়ার দীর্ঘদিন কিডনি ব্যর্থতায় ভোগা রোগীদের ডায়ালিসিস করিয়ে থাকে। ডায়ালিসিস টেকনিশিয়ান ডায়ালাইসিস মেশিনগুলির তত্ত্বাবধান করেন এবং এগুলিকে জীবাণুমুক্ত রাখেন।

ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান

যোগ্যতা- দ্বাদশ বোর্ড পরীক্ষায় বিজ্ঞান নিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।

এটি ২৪ মাসের কোর্স।

কোর্সটি শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থী ল্যাব টেকনিশিয়ান ব্লাড ব্যাংক টেকনিশিয়ান, ফিলিবোটমিস্ট হিসাবে হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজে কাজ পেতে পারে।

ডিপ্লোমা ইন অপারেশন থিয়েটার টেকনোলজি

যোগ্যতা- মাধ্যমিক পাশ হতে হবে।

এটি একটি ২৪ মাসের কোর্স।

অপারেশন থিয়েটার অপারেটিং থিয়েটার এবং সরঞ্জাম প্রস্তুত করে। এছাড়া অপারেশন থিয়েটার রক্ষণাবেক্ষণ এবং অপারেশন চলাকালীন চিকিৎসককে সহায়তা করা এদের কাজ।

ডিপ্লোমা ইন হসপিটাল নার্সিং এন্ড মিডওয়াইফারি

যোগ্যতা- মাধ্যমিক পাস হতে হবে।

এটি একটি ২৪ মাসের কোর্স।

ডিএনএইচএম এর প্রধান দায়িত্ব হল রোগীর জন্য নার্সিং কেয়ার প্রয়োজনীয়তা গুলো নির্ধারণ করা এবং অপারেশনের আগে এবং পরে রোগীর যত্ন নেওয়া।

ডিপ্লোমা ইন নার্সিং এডমিনিস্ট্রেশন

যোগ্যতা- মাধ্যমিক পাস হতে হবে।

এটি একটি ২৪ মাসের কোর্স।

একজন নার্স এডমিনিস্ট্রেটর এর বিস্তৃত এবং বহুমুখী দায়িত্ব রয়েছে। তাদের প্রধান কাজ হচ্ছে নার্সিং কর্মীদের কাজ কর্মের তদারকি করা এবং তাদেরকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা।

ডিপ্লোমা ইন ইমারজেন্সি মেডিকেল টেকনোলজি

যোগ্যতা- মাধ্যমিক পাস হতে হবে।

এটি একটি চব্বিশ মাসের কোর্স।

ইমার্জেন্সি মেডিকেল টেকনিশিয়ানরা জরুরি বিভাগে রোগীদের বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা দিয়ে থাকে। এদের মধ্যে শিরা পথে চ্যানেল করা, ওষুধ পরিচালনা করা, হার্ট অ্যাটাক এবং ট্রমার মত সমস্যাযুক্ত
রোগীদের পরিচর্যা করা।

ডিপ্লোমা ইন রেডিওলজি এন্ড ইমাজিং টেকনোলজি

যোগ্যতা- মাধ্যমিক পাস হতে হবে।

এটি একটি ২৪ মাসের কোর্স।

এই ধরনের টেকনোলজিস্টরা সাধারণত এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই স্ক্যান, ম্যামোগ্রাফি এবং রেডিয়েশন থেরাপির মত রোগ নির্ণয়ক কাজে যুক্ত থাকে।

ডিপ্লোমা ইন ফিজিওথেরাপি টেকনোলজি

যোগ্যতা- মাধ্যমিক পাস হতে হবে।

এটি একটি ২৪ মাসের কোর্স।

ফিজিওথেরাপিস্টরা অপারেশনের পর, কোন ধরনের অসুস্থতা কিংবা বার্ধক্য জনিত অক্ষম রোগীদের পরিষেবা দিয়ে পুনরায় সক্ষম করে তোলে। এরা আঘাতের কারণগুলি সনাক্ত করে চিকিৎসা পরিকল্পনা, ম্যানুয়াল থেরাপি এবং ইলেক্ট্রো থেরাপির মাধ্যমে রোগীদের সেবা করে থাকে।

সার্টিফিকেট ইন মেডিকেল রেডিওগ্রাফি টেকনোলজি

যোগ্যতা- মাধ্যমিক পাশ হতে হবে।

এটি একটি ১২ মাসের কোর্স।

এই কোর্স সম্পন্ন হওয়ার পর শিক্ষার্থী হাসপাতলে এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই স্ক্যান এবং অন্যান্য ডায়গনস্টিক ইন্সট্রুমেন্ট এর পর্যবেক্ষণে নিযুক্ত হতে পারে।

 

অ্যাডভান্স সার্টিফিকেট ইন জেনারেল ডিউটি অ্যাসিস্ট্যান্ট

যোগ্যতা- মাধ্যমিক পাস হতে হবে।

এটি একটি ছয় মাসের কোর্স।

জেনারেল ডিউটি অ্যাসিস্ট্যান্ট, নার্সিং এসিস্টেন্ট নামেও পরিচিত। এদের প্রধান কাজ হল রোগীর প্রতিদিনের যত্ন রোগের আরাম এবং সুরক্ষা সমেত অন্যান্য প্রয়োজনীয়তার দিকে লক্ষ্য রাখা।

সার্টিফিকেট ইন ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান

যোগ্যতা- মাধ্যমিক পাশ হতে হবে।

এটি ছয় মাসের কোর্স।

কোর্স সম্পন্ন হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা জরুরী চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ হিসেবে হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ পেতে পারে।

সার্টিফিকেট এনসথেসিয়া টেকনিশিয়ান

যোগ্যতা- মাধ্যমিক পাশ হতে হবে।

এটি একটি ১২ মাসের কোর্স।

কোর্স সম্পন্ন হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা এনেস্থিসিয়া টেকনিশিয়ান হিসেবে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ সহ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ হতে পারে।

সার্টিফিকেট ইন কার্ডিয়াক কেয়ার টেকনিশিয়ান

যোগ্যতা- মাধ্যমিক পাস হতে হবে।

এটি একটি ছয় মাসের কোর্স।

কোর্সটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর শিক্ষার্থী কার্ডিয়াক টেকনিশিয়ান, আইসিসি টেকনিশিয়ান, ল্যাব টেকনিশিয়ান হিসাবে হাসপাতালে মেডিকেল কলেজে কাজ পেতে পারে।

সার্টিফিকেট ইন ফেলবটমি টেকনিশিয়ান

যোগ্যতা- মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করতে হবে।

এটি একটি ছয় মাসের কোর্স।

ফেলবটমি টেকনিশিয়ানদের প্রধান কাজ হচ্ছে রোগীদের কাছ থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা এবং রক্তের পরীক্ষার জন্য এই নমুনা প্রস্তুত করা।

সার্টিফিকেট ইন ফার্মাসি অ্যাসিস্ট্যান্ট

যোগ্যতা- মাধ্যমিক পাস হতে হবে।

এটি একটি ছয় মাসের কোর্স।

ফার্মাসিস্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট একজন ফার্মাসিস্টের তত্ত্বাবধানে কাজ করে থাকে এবং ফার্মাসির মধ্যে বহু কাজ সম্পাদনা করে থাকেন।

সার্টিফিকেট ইন এক্সরে টেকনিশিয়ান

যোগ্যতা- মাধ্যমিক পাস হতে হবে।

এটি একটি ছয় মাসের কোর্স।

এক্সরে টেকনিশিয়ান, রেডিওলজিস্টের নির্দেশনায় এবং তত্ত্বাবধানে রেডিওগ্রাফির সরঞ্জাম ব্যবহার করে মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের এক্সরে চিত্র তৈরি করে।

সার্টিফিকেট ইন নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট

যোগ্যতা- মাধ্যমিক পাস হতে হবে।১২ মাসের কোর্সটি সম্পন্ন হওয়ার পর একজন নার্সের তত্ত্বাবধানে কোন হাসপাতালে বা রোগীর বাড়িতে রোগীকে পরিষেবা দেবার কাজে নিযুক্ত হতে পারেন।

সার্টিফিকেট ইন জেনারেল ডিউটি অ্যাসিস্ট্যান্ট

যোগ্যতা- ক্লাস ফাইভ পাস করতে হবে।

তিন মাসের কোর্সটি সম্পন্ন হওয়ার পর প্রার্থী রোগীর সেবার কাজে কোন হাসপাতালে নিযুক্ত হতে পারে।

বর্তমান চিকিৎসা প্রযুক্তি একজন প্রশিক্ষিত প্যারামেটিক্স ছাড়া একেবারেই অচল। সুতরাং, ভারতে প্যারামেডিকেল সাইন্স ডিগ্রি কোর্স করে যে কোন শিক্ষার্থী প্যারামেডিক্স হিসেবে, নিজস্ব যোগ্যতা অনুসারে নামিদামি হাসপাতালে কাজের সুযোগ পেতে পারে।






    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.